ড. শফিকুর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে একটি অনন্য নাম। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র আমীর এবং দেশের ইসলামের প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, পেশাগত ও জাতীয় রাজনৈতিক জীবনে তিনি সততা, দক্ষতা ও মেধার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি নেতৃত্বদানকারী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।
জন্ম
জাতির এই বীর সন্তান ও মেধাবী রাজনীতিবিদ ১৯৫৮ সালের ৩১ অক্টোবর মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থানার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মোহাম্মদ আব্রু মিয়া এবং মাতার নাম খাতিরুন নেছা। শফিকুর রহমানের তিন ভাই ও এক বোন আছেন। তিনি ভাইবোনদের মধ্যে তৃতীয়।
রাজনৈতিক জীবন
শফিকুর রহমান ১৯৭৩ সালে জাসদ ছাত্রলীগের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেন। পরে, ১৯৭৭ সালে তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগদান করেন। সিলেট মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় প্রথমে তিনি শিবিরের মেডিকেল শাখার সভাপতি হন এবং পরে সিলেট জেলা শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালে তিনি মূল দল জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন এবং সিলেট অঞ্চলের আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১০ সালে কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে তিনি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর প্রথমে তিনি ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল হন এবং ২০১৬ সালে সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হন। ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর তিনি জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির নির্বাচিত হন এবং এখন পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পালন করছেন।
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন
শফিকুর রহমান ১৯৮৫ সালের ৫ জানুয়ারি ডা. আমেনা বেগমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। আমেনা বেগম অষ্টম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য অবদান
তিনি রাজনৈতিক সেবা ও সেবামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা এবং আর্থিক সহায়তা করে আসছেন। এর মধ্যে তার নিজ জেলায় প্রতিষ্ঠিত সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন