স্থানীয়রা ভুল করে ঘড়িয়ালকে কুমির ভেবে বেঁধে রাখলেন।


পটুয়াখালীর বাউফলের তেঁতুলিয়া নদীতে এক জেলের জালে আটকা পড়ে একটি ঘড়িয়াল। তবে স্থানীয়রা প্রাণীটিকে কুমির ভেবে দিঘির পাড় লঞ্চ টার্মিনালের পাশে বেঁধে রাখেন। শনিবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে তেঁতুলিয়া নদীর ধুলিয়া পয়েন্টে ঘড়িয়ালটি ধরা পড়ে।


বাউফল উপজেলা বন কর্মকর্তা বদিউজ্জামান খান সোহাগ জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিশ্চিত হন যে এটি ঘড়িয়াল, কুমির নয়।

তিনি বলেন, ঘড়িয়াল একটি শান্ত প্রাণী, যা মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে স্থানীয়রা এটিকে আটকে রাখার ফলে উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের আক্রমণের শিকার হতে হয়। তাদের পায়ে আঘাত লেগেছে, যা সেলাই করতে হবে। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং ঘড়িয়ালটি অবমুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা জানান, ঘড়িয়াল খুবই শান্ত ও লাজুক প্রাণী। এক সময় ব্রহ্মপুত্র, পদ্মা, যমুনার শাখা নদীতে ঘড়িয়ালের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল, কিন্তু বাসস্থান ধ্বংস, কারেন্ট জালে আটকে মৃত্যু, এবং অতিরিক্ত নৌযান চলাচলের কারণে গত ৬০ বছরে এদের সংখ্যা দ্রুত কমে গেছে। বর্তমানে এটি বিলুপ্তির পথে।

তিনি আরও বলেন, ঘড়িয়াল মূলত মাছ খায়, এজন্য জেলেদের মধ্যে এটি মেছো কুমির হিসেবে পরিচিত। মার্চ থেকে মে মাসে ঘড়িয়াল নদীর তীরে ডিম পাড়ে। ২০১৬ সালে বন বিভাগ ও আইইউসিএন পরিচালিত এক জরিপে পদ্মা, মহানন্দা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীতে মোট ৫৮টি ঘড়িয়ালের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এছাড়া, পদ্মা ও যমুনায় কিছু 'হটস্পট' চিহ্নিত করা হয়েছে যা এ প্রজাতির সংরক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি সবাইকে ঘড়িয়ালসহ সকল বন্যপ্রাণীর প্রতি সদয় হওয়ার আহ্বান জানান, উল্লেখ করেন যে আইইউসিএন ঘড়িয়ালকে ‘মহাবিপন্ন’ প্রাণীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। ২০০৭ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, পৃথিবীতে মাত্র ২০০টির কম বুনো ঘড়িয়াল অবশিষ্ট রয়েছে।

মন্তব্যসমূহ